যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বার্নহ্যাম, শপথ নিচ্ছেন কবে?

যুক্তরাজ্যের সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের পদত্যাগের পর দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামী সোমবার (১৯ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ বা শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিজ্ঞাপন
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন কেইর স্টারমার। তার পদত্যাগ গ্রহণের পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন কেইর স্টারমার। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি লেবার পার্টির প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ নেতাও হন তিনি।
তবে গত মে মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি এবং উগ্র ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে’র উত্থানের জেরে দলের ভেতরে ব্যাপক চাপে পড়েন কিয়ের স্টারমার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। অবশেষে গত ২২ জুন যুক্তরাজ্যের প্রধামন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেন স্টারমার।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্টারমারের পদত্যাগের পর থেকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দল লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা হিসেবে দলটির জেষ্ঠ্য নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম উঠে আসে। গতকাল শুক্রবার বার্নহামকে দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে লেবার পার্টি। এখন বাকি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়া।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগপত্র প্রদানের অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাজা চার্লস। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হবে যে তিনি যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধামন্ত্রী হওয়ার জ্য প্রস্তুত কি-না। যদি তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন— তাহলে তখন থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
কেইর স্টারমারের পদত্যাগপত্র জমা এবং রাজা চার্লসের সঙ্গে অ্যান্ডি বার্নহামের বৈঠক— উভয়ই হবে বাকিংহাম প্যালেসে। সেখানে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবেন বার্নহাম এবং ভাষণ দেবেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের কাজটি হয় সরকারি দলের এমপি এবং ভোট দিতে সক্ষম কর্মীদের ওপরে। লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দলটির প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ নেতা হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল; কিন্তু এক্ষেত্রে তার সামনে বড় বাধা ছিল এই যে তিনি এমপি ছিলেন না।
গতমাসে একটি উপনির্বাচনে আলোচিত রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বার্নহ্যাম। এই জয়ের মধ্য দিয়েই দলের শীর্ষ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চাইলে তিনি প্রচলিত রীতি ভেঙে আগাম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের সংবিধানে সে সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বার্নহ্যাম আপাতত সেই পথে হাঁটবেন না এবং বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করবেন।
বস্তুত, অবৈধ অভিবাসী সংকট সমাধানে কার্যকর সমাধান হাজির করতে না পারা এবং উগ্র ডানপন্থি রিফর্ম ইউকে পার্টির উত্থানে কয়েক বছর ধরে টালমাটাল অবস্থায় আছে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি। গত ১০ বছরে মোট ৬ জন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে দেশটি; সোমবার বার্নহ্যাম ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সংখ্যা পৌঁছাবে ৭ জনে।
সূত্র : বিবিসি
বিজ্ঞাপন








