ইরানে হামলা: ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় মার্কিন বাহিনী

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এখনো তিনি এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেননি বলে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিমান ও নৌ-সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই হামলা চালাতে সক্ষম।
বর্তমানে অঞ্চলে অবস্থান করছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (CVN-72) ও এর সহযোগী বহর। আরেকটি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড (USS Gerald R. Ford - CVN 78) মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে; সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এটি পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছাকাছি ছিল। এছাড়া ডজনখানেক রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও ৫০টির বেশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানা গেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে জানানো হয়েছে—মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে থাকবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতায় আসাই হবে যুক্তিসংগত পথ। তার দাবি, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে; তবে কূটনীতিক সমাধানই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো দূরত্বে রয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক মাধ্যমে একটি এআই-নির্মিত ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে সমুদ্রে ডুবে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি ইঙ্গিত দেন, রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক সেই অস্ত্র, যা তাকে সমুদ্রগর্ভে পাঠাতে পারে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা হলে এর পরিণতি শুভ হবে না; এটি আগুন নিয়ে খেলার শামিল।
বিজ্ঞাপন
গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।
এর আগে ২০১৪ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর পর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি। সংস্থাটির মতে, পারমাণবিক বোমা না থাকা সত্ত্বেও এত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ চালানো একমাত্র দেশ ইরান।








