Logo

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯:৫৮
‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে তালেবান সরকারের সাম্প্রতিক এক আইন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান প্রশাসন একটি নতুন ফৌজদারি বিধি জারি করেছে, যেখানে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ওই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, মারধরের ফলে যদি হাড় ভেঙে যায় বা গুরুতর জখম হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নতুন এই দণ্ডবিধিতে বলা হয়েছে, স্বামী ‘অতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান আঘাত বা হাড় ভাঙার কারণ হলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে শাস্তি কার্যকর করতে হলে নির্যাতনের বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পৃষ্ঠার এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন। পশতু ভাষায় প্রণীত এই বিধির নাম ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’, যার অর্থ আদালতের ফৌজদারি কার্যপ্রণালীর নিয়মাবলি। ইতোমধ্যে এটি দেশের বিভিন্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আইনের একটি বিতর্কিত অংশে বলা হয়েছে, নির্যাতিত নারী আদালতে নিজের আঘাত প্রদর্শন করতে পারবেন, তবে তাকে সম্পূর্ণ হিজাব পরিহিত থাকতে হবে এবং তার সঙ্গে স্বামী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি আবশ্যক।

এছাড়া বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তার জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন দণ্ডবিধিতে সমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে—উলামা (ধর্মীয় পণ্ডিত), আশরাফ (অভিজাত), মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রেও শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে সামাজিক অবস্থানকে বিবেচনায় নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে আইনের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ধারণা, তালেবান সরকারের এ ধরনের বিধান আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে। বিশেষ করে নারী অধিকার ও পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ে এই আইনকে ঘিরে ইতোমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন দণ্ডবিধি সেই ধারাবাহিকতার অংশ কিনা, তা নিয়ে দেশ-বিদেশে চলছে আলোচনা।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD