ইরান যুদ্ধ : ফুরিয়ে আসছে কি সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে কার্যত যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—প্রতিদিন কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এই যুদ্ধে? আর যুক্তরাষ্ট্র কতদিন এই ব্যয় ও সামরিক চাপ বহন করতে পারবে?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘বড় যুদ্ধাভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। পরে পেন্টাগন জানায়, অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটাই এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ‘এখন আর সতর্ক হওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছি না’
ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে বি-১ ও বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ ফ্যালকনসহ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। আকাশপথে নজরদারি ও হামলায় ব্যবহার হচ্ছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন।
ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য এম১৪২ হিমার্স রকেট সিস্টেম এবং সাগর থেকে ছোড়া টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া সমুদ্র টহলে রয়েছে পি-৮ পসেইডন উড়োজাহাজ এবং রসদ পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ও সি-১৩০ হারকিউলিস।
তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।
অভিযান শুরুর আগেই যুদ্ধবিমান স্থানান্তর, নৌযান মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সামরিক প্রস্তুতির জন্য আরও প্রায় ৬৩ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা দিতে গিয়ে মার্কিন করদাতাদের অতিরিক্ত কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, ফলে সামগ্রিক যুদ্ধ ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট থাকায় অর্থের দিক থেকে যুদ্ধ কিছু সময় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অস্ত্রের মজুত, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্যাট্রিয়ট ও এসএম-৬ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত। এসবের একটি বড় অংশ ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিরক্ষার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে ইরান ফ্রন্টে অতিরিক্ত ব্যবহার অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় দ্রুত এবং বড় আকারে উৎপাদনও সহজ নয়।
কুয়েতে অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ভুলবশত এগুলোকে ইরানি বিমান ভেবে গুলি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধ দীর্ঘদিন চালানো হবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহও স্থায়ী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষেত্রে অস্ত্রের সরবরাহ, সামরিক কৌশল এবং বহুমুখী ফ্রন্টে চাপ—এই তিন বিষয়ই হয়ে উঠতে পারে নির্ধারক ফ্যাক্টর।








