ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ডামাডোলে লাভবান পুতিনের রাশিয়া

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম ত্বরান্বিতভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে রাশিয়া।
বিজ্ঞাপন
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্টক মার্কেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার শেয়ার বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। দেশটির তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারকদের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কাভুলিচ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে রাশিয়ার জন্য সাময়িকভাবে বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা হবে এই পরিস্থিতির সবচেয়ে দৃশ্যমান সুবিধাভোগী।
ইমপ্লিমেন্টার গবেষণা পরিচালক মারিয়া বেলোভা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির বন্ধে কাতারের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিতে সীমিততা এসেছে। এর ফলে রাশিয়ার এলএনজি রপ্তানিকারকদের জন্য বাজার ও রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। আইএনজির কার্স্টেন ব্রজেস্কির মতে, জ্বালানি সরবরাহের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহের হ্রাস মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করবে এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এই পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া, যার শক্তি খাতের ওপর অর্থনীতির বড় অংশ নির্ভরশীল, তা সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।








