ভারতে এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ল গ্যাসের দাম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আবারও বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সিলিন্ডারপ্রতি গ্যাসের দাম ৬০ থেকে ১১৪ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ মার্চ) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দামে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পরিবারিক রান্নার খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, কলকাতায় ১৪ কেজি ওজনের গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ রুপি থেকে বেড়ে এখন ৯৩৯ রুপি হয়েছে। অন্যদিকে ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৭৬ রুপি থেকে ১১৪ রুপি বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৯০ রুপিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিজনবিহারী বিশ্বাস জানান, আপাতত বড় গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বড় সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। একইভাবে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ গ্রাহকদের যেন তেমন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাঠের চুলায় রান্না করার কথাও ভাবছেন।
কলকাতার এক গৃহবধূ বলেন, গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারের জন্য রান্নাঘরের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। আগে যেখানে তুলনামূলক কম দামে সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন প্রায় এক হাজার রুপি খরচ করতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত চুলা ব্যবহার করলেও সেখানে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে রান্নাঘরে এসে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবারই বাড়তি খরচ সামাল দিতে নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছেন।








