Logo

ইরানের হামলায় ৭ মার্কিন সেনা নিহত, ১৭ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ মার্চ, ২০২৬, ১৩:০২
ইরানের হামলায় ৭ মার্কিন সেনা নিহত, ১৭ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানবিরোধী মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে। উচ্চ-রেজোলিউশনের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বিবৃতির ভিত্তিতে এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে গত ১ মার্চের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। একই দিনে সৌদি আরবে অবস্থিত আরেকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৃথক হামলায় আরও একজন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের এই হামলার তীব্রতা ও ব্যাপকতা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যতটা ধারণা করেছিলেন, তেহরান তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রথম দিনেই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি আল-উদেইদসহ প্রিন্স সুলতান, আলী আল-সালেম এবং ক্যাম্প বুহরিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে আঘাত হানা হয়।

বিজ্ঞাপন

হামলায় শুধু প্রাণহানিই নয় বরং বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পেন্টাগন। কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি মাত্র হামলায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আল-উদেইদ এবং আল-ধফরার মতো বেশ কিছু ঘাঁটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। 

ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল আমেরিকার ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের রাডার ইউনিট এবং যোগাযোগ অবকাঠামো। স্যাটেলাইট চিত্রে জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একটি থাড রাডার সেন্সর ধ্বংস হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে, যার একটির মূল্যই প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কাতারে স্থাপিত প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি আধুনিক দীর্ঘ-পাল্লার রাডার সিস্টেমও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD