Logo

ছুটিতে শিক্ষার্থীদের ‘প্রেম করার’ আহ্বানে শোরগোল নেটপাড়ায়

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মার্চ, ২০২৬, ২০:২২
ছুটিতে শিক্ষার্থীদের ‘প্রেম করার’ আহ্বানে শোরগোল নেটপাড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বসন্তকালীন ছুটিতে পড়াশোনার চাপ কমিয়ে প্রেম ও সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এক ভিন্নধর্মী বার্তা দিয়েছে। ফলাফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত দেশটিতে এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন তাদের অফিসিয়াল উইচ্যাট প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেছে, আগামী ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বসন্তকালীন ছুটির মূল প্রতিপাদ্য হবে—‘ফুল উপভোগ করো, ভালোবাসা অনুভব করো’। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গিয়ে জীবনের অন্য দিকগুলো অন্বেষণে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সুযোগ, যাতে তারা কিছুদিনের জন্য পড়াশোনা থেকে বিরতি নিয়ে ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন চীন সম্প্রতি প্রচলিত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবীদের জন্য অফ-সিজনে ভ্রমণ উৎসাহিত করতে ধাপে ধাপে বেতনসহ ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

দেশটির বিভিন্ন প্রদেশ—যেমন সিচুয়ান ও জিয়াংসু—এবং সুজৌ ও নানজিংয়ের মতো শহরগুলো ইতোমধ্যে বসন্তকালীন ছুটির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা মূলত এপ্রিল বা মে মাসের শুরুর দিকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে ভ্রমণ ও অবসর কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে জন্মহার হ্রাসের প্রবণতা ঠেকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা চতুর্থবারের মতো চীনের জনসংখ্যা কমেছে এবং জন্মহার নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রেক্ষাপটে, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন ‘শিশুবান্ধব শহর’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্রীড়া ও বিনোদন খাতে উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চীনা ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেমস লিয়াং বলেন, পরিবার গঠনের জন্য সমাজে পর্যাপ্ত সময় ও আর্থিক সহায়তা থাকা জরুরি। তার মতে, তরুণদের বড় পরিবার গঠনের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুফল সম্পর্কে আরও সচেতন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সম্পদের সঠিক বণ্টন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করে, তাহলে একটি সহায়ক সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD