Logo

মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মার্চ, ২০২৬, ২০:০৮
মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ অভ্যন্তরীণ অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে লোহিত সাগর এলাকা ছাড়ছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মেরামতের জন্য রণতরিটিকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটির দিকে পাঠানো হচ্ছে। গত বছরের জুন থেকে টানা প্রায় নয় মাস সমুদ্রে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড জাহাজটির সক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রণতরির লন্ড্রি বিভাগে আগুন লাগে। প্রায় ৩০ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ধোঁয়ার কারণে প্রায় ২০০ জন নাবিক অসুস্থ হন এবং একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০টি শয্যা ও লন্ড্রি সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজের ইঞ্জিন ব্যবস্থা সচল রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ নাবিকের মনোবলে প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাহাজটির অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই রণতরিতে ৬৫০টির বেশি শৌচাগার থাকলেও ড্রেনেজ জটের কারণে সেগুলো ব্যবহারে অসুবিধা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২০ সালের এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, টয়লেট জট নিরসনে প্রতিবার অ্যাসিড ফ্লাশে মার্কিন সরকারের প্রায় ৪ লাখ ডলার ব্যয় হয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ মোতায়েন ও অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা ক্রুদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং বিষয়টি উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এই রণতরিকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং উন্নত রাডার ব্যবস্থা ছিল। দাবি করা হয়, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ইরানের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে রণতরিটি সরিয়ে নেওয়া হলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর বিকল্প হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ’ রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ কবে পুনরায় সক্রিয় হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD