মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও স্থির সোনার বাজার, কারণ কী?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেও সোনার বাজারে প্রত্যাশিত উত্থান দেখা যাচ্ছে না। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তিন সপ্তাহের কাছাকাছি গড়ালেও, ঐতিহ্যগতভাবে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে পরিচিত সোনার দামে বড় কোনো লাফ দেখা যাচ্ছে না—যা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এ পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায় এবং শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি হয়।
তবে এই অস্থিরতার মধ্যেও সোনার দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের তুলনায় সোনার দাম ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলার ছাড়ানোর পর বর্তমানে তা প্রায় একই স্তরে ঘোরাফেরা করছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৯৯০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণত যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে সোনার দিকে ঝোঁকেন, ফলে দাম দ্রুত বাড়ে। যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় সোনার বাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়ানো হতে পারে—এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এতে ডলারে বিনিয়োগ বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার চাহিদা কমে যায়, কারণ সোনায় বিনিয়োগে সুদ পাওয়া যায় না। ফলে বিনিয়োগকারীরা ডলারের মতো বিকল্প নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। তেলের দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে, যা ডলারের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
আরেকটি বড় কারণ হলো—সোনার দাম আগেই অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বছরের শুরুতেই সোনার মূল্য উচ্চ পর্যায়ে থাকায় নতুন করে বড় ধরনের উত্থানের সুযোগ কমে গেছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সোনার দামে তেমনভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী সোনাকে আগের মতো নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে না দেখে বরং কিছুটা জল্পনানির্ভর সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বড় বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও বাজারের অনিশ্চয়তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আগামী দিনে সোনার বাজার কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর—যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তাহলে আবারও সোনার চাহিদা বাড়তে পারে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে বড় ধরনের উত্থানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।








