যে কারণে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে পারছে না শত্রুপক্ষ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সংঘাতের ২৯তম দিনে হরমুজ প্রণালি ইরানের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সামুদ্রিক মাইন ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ। পাশাপাশি এখানে কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সারও পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশ বিকল্প পথ খুঁজতে ব্যর্থ হচ্ছে, তেলের উৎপাদন কমিয়েছে, কিন্তু ইরান তার তেল অবাধে রপ্তানি করছে। বর্তমানে দেশের রপ্তানি ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি। এর ফলে ফেব্রুয়ারির তুলনায় ইরানের দৈনিক আয় বেড়ে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালির প্রায় ২৪ মাইল প্রশস্ত সংকীর্ণ অংশের কারণে জাহাজ চলাচল সীমিত। ইরানের প্রায় ১ হাজার মাইল দীর্ঘ উপকূল, পাহাড়, দ্বীপ ও জনবসতি শত্রুর নজরদারি কঠিন করছে। মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া এবং ছোট ড্রোন ও দ্রুতগামী নৌযান ব্যবহার করে ইরান সহজেই হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অন্তত ১৯টি জাহাজে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের বৈরিতা নেই, তারা ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণালি ব্যবহার করতে পারছে; এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজ পার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মধ্যেও ইরান সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রণালির ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।








