ইরান যুদ্ধ থামাতে চারটি মুসলিম দেশের পাকিস্তানে বৈঠক

ইরান যুদ্ধে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একজোট হয়েছে চারটি মুসলিম দেশ। মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে বৈঠক করে যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার করেছেন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই বৈঠক কূটনীতিকদের মতে শুধু যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কৌশলগত জোট গঠনের সূচনা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সব পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজি করানো।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন ফারুক জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইসরায়েল ইতিমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসেনা মোতায়েনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈঠকে পারমাণবিক কেন্দ্র বা পানি শোধন কেন্দ্রে হামলার ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ইসলামাবাদ বৈঠকের একটি বড় সাফল্য হলো হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের নমনীয়তা। তেহরান পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে এই জলপথে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে (প্রাথমিকভাবে দিনে দুটি জাহাজ)। এটি আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ জোট এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনিচ্ছুক হওয়ায় মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকের পর পাকিস্তান চীনে গিয়ে পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সমঝোতায় চীনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছে।
বিজ্ঞাপন
কাতার এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ভিন্ন অবস্থান পোষণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য জটিল সমীকরণ—একদিকে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়া চাই, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা এড়িয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে হবে। তুরস্ক এই জোটে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগটি সফল হলে শুধু বর্তমান যুদ্ধই থামবে না, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যও পরিবর্তিত হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








