মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব, ঝুঁকিতে ভারতের ইন্টারনেট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভারতের ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন কেবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
ভারতের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৬০ শতাংশ মুম্বাই থেকে ইউরোপগামী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলে কোনো বিঘ্ন ঘটলে দেশের ইন্টারনেট গতি, ক্লাউড সেবা এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমানে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে ১৭টি সাবমেরিন কেবল এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সব কেবল একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত করা কঠিন হলেও কয়েকটি কেবল বিচ্ছিন্ন হলেই পুরো নেটওয়ার্কের ওপর বড় প্রভাব পড়বে।
বিজ্ঞাপন
ভারতের মোট ট্রাফিকের বাকি ৪০ শতাংশ চেন্নাই হয়ে সিঙ্গাপুর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যায়। তবে পশ্চিমমুখী এই রুটই দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
চলমান সংঘাতের মধ্যে সাবমেরিন কেবলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি, তবুও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সমুদ্রতলের অবকাঠামো রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটে বর্তমানে পাঁচটি প্রধান কেবল সক্রিয় রয়েছে—এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপ ১, ফ্যালকন নেটওয়ার্ক, টাটা টিজিএন-গালফ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ ৪ এবং আইএমইডব্লিউই। দেশের শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের ব্যবসায়িক ঝুঁকিও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
অতীতে সাবমেরিন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতের সঙ্গে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ ডেটা ট্রাফিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অপারেটরদের ঝুঁকি মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাবমেরিন কেবল অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস








