ট্রাম্পের ভাষণের পর শেয়ারবাজারে পতন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের অনেক লক্ষ্য ধ্বংস করেছে, তবে এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের শেষ রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রয়োজনে ইরানকে “স্টোন এজে” ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার রাতে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে। তবে যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ দ্রুত শেষ হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে ১৯ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, সব সামরিক ও কূটনৈতিক সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, আর ইরানের হাতে কিছু নেই। তবে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত বা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে।
বিজ্ঞাপন
ভাষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারবাজারে পতন, ডলারের মান বৃদ্ধি এবং তেলের দাম বাড়ার ঘটনা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা জোরালো করেছে।
ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও জোরালো হামলা চালাবে। নতুন নেতৃত্ব সন্তোষজনকভাবে আলোচনায় না এলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও তেল অবকাঠামোও লক্ষ্য হতে পারে। ভাষণের সময় মধ্যপ্রাচ্যে সাইরেন বেজে ওঠে, যা ইরানের হামলার সক্ষমতা এখনও বজায় থাকার প্রমাণ দেয়।
ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে নেতৃত্ব দিতে বলছেন। তিনি ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং ৬৬ শতাংশ দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা শেষ করতে চান।
অতিরিক্ত সেনা উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্র এখনও সব সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে। ট্রাম্প ভাষণের শেষে আমেরিকানদের আহ্বান জানান, অতীতের ইরাক, ভিয়েতনাম ও কোরিয়া যুদ্ধের মতো সংঘাতকে যথাযথ প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।








