বাংলাদেশ সীমান্তের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়ার পরিকল্পনা ভারতের

প্রাচীনকালে দুর্গ বা প্রাসাদ ঘিরে পরিখা খনন করে কুমির ছেড়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক কৌশলের কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সেই ধারণাকেই আধুনিক সীমান্ত নিরাপত্তায় ব্যবহারের চিন্তা করছে। বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি এলাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বিএসএফ।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফেডারেল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় একটি অংশ নদীমাতৃক বা জলাভূমি বেষ্টিত। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষ থেকে আসা এক নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএসএফ এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএসএফ এই অস্বাভাবিক পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছে। গত ২৬ মার্চ বিএসএফের ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টর সদর দপ্তরে পাঠানো এক গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব নদীপথ ও পাহাড়ি ছড়ায় বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অপারেশনাল প্রয়োজনে সাপ বা কুমির মোতায়েন করা যায় কি না— তা অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখতে।
বিজ্ঞাপন
ভারতের এই পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনার অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডায় 'অলিগেটর আলকাট্রাজ' নামে একটি ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির ও অজগর থাকে, যা বন্দিদের পালানো রোধে কাজ করে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতেও এমন ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলেন, যদিও পরে তিনি তা কৌতুক হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভারত অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে।
বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। প্রায় ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ২ দশমিক ৬৫ লাখ সদস্যের একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নির্বাচনসহ অন্যান্য অ-সীমান্ত দায়িত্বে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া বাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং আরও ২০ শতাংশ শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নন। এই সংকট মোকাবিলায় প্রকৃতিকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞাপন
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তবে ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এখনও প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা বেড়াহীন। এর মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযুক্ত।
মূলত এই এলাকাগুলোতেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সরীসৃপ মোতায়েনের এই বিকল্প ও কঠোর পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ফেডারেল
বিজ্ঞাপন








