Logo

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:০২
মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে পাঁচ বছর আগের অভ্যুত্থানের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করেছে।

বিজ্ঞাপন

সংসদে প্রদত্ত ৫৮৪ ভোটের মধ্যে মিন অং হ্লাইং পেয়েছেন কমপক্ষে ২৯৩ ভোট, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের সাত দিন পর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশকে এক বছরের মধ্যে বেসামরিক শাসনে ফিরিয়ে আনার, কিন্তু তা বাস্তবায়নে সময় লেগেছে পাঁচ বছর। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে বসার জন্য তিনি ইতিমধ্যেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

নতুন সরকারের কাঠামোয় সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য বজায় থাকবে। মিন অং হ্লাইং-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল ইয়ে উইন উ-এর নিয়োগ, এবং নতুন পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করার মাধ্যমে বেসামরিক ও সামরিক বিষয়ে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব সেই সরকারের অধীনে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিপর্যয়কর রূপ নিয়েছে। প্রতিবাদী আন্দোলনকর্মী ও তরুণেরা দেশভিত্তিক কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিদেশে কাজ খোঁজার কথা ভাবছেন। সামরিক শাসন দেশের বড় অংশে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা স্কুল, হাসপাতাল ও বাড়ি ধ্বংস করেছে।

ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) নতুন সরকারকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং সেনাবাহিনীকে রাজনীতির বাইরে সরানোর জন্য লড়াই চালাচ্ছে। মিয়ানমারের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয় মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি, এবং বাস্তুচ্যুত প্রায় ৪০ লাখ। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক কর্মী মিয়া আয় মনে করছেন, সংকট থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো সামরিক বাহিনী ও বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতা খোঁজা। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো সমাধান নয়। প্রেসিডেন্ট জনগণের সঙ্গে খেলছে, এবং সংলাপ ছাড়া দেশ ধসে পড়বে।” কারাবন্দি অং সান সু চি মুক্তি পেলে শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

মিয়ানমারে শান্তির পথ থাকলেও তা সীমিত, এবং সামরিক শাসকরা আপাতত সেই পথে হাঁটতে ইচ্ছুক নন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD