শিগগির হরমুজ প্রণালি খুলছে না ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান খুব দ্রুত এই প্রণালির ওপর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব কমাবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুটটি বর্তমানে ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তেহরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে চলমান সংঘাতের দ্রুত সমাধান বের করা যায়।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ড্রোন হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী ‘লিভারেজ’ হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষক আলী ভায়েজ মন্তব্য করেন, এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা একটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি খুলে দিতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি সহজেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ফলে সামান্য আক্রমণও পুরো নৌ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম।
এদিকে, ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান এই নিয়ন্ত্রণ সহজে ছাড়বে না। কারণ, ভবিষ্যতে পুনর্গঠন তহবিল সংগ্রহের জন্য জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপ করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








