ইরানে স্থল অভিযানের বিপক্ষে বেশিরভাগ মার্কিনি, যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশটিতে স্থল অভিযান চালানোর বিরোধিতায় বেশিরভাগ মার্কিনি একমত। সম্প্রতি রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার টেলিভিশনে এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ পরিচালনার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তবে জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিনি যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ও নিজেদের আর্থিক অবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও খারাপ হবে বলে মনে করছে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা। একইভাবে ইরানের মানুষের জীবনমান খারাপ হবে বলে মনে করে ৪৯ শতাংশ। তুলনায়, উন্নতি হবে বলে মনে করে মাত্র প্রায় ২১ শতাংশ মানুষ।
চারজনের মধ্যে তিনজনের বেশি মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধিতা করছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিকল্পটি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া, ইরান যুদ্ধের কারণে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে মনে করে ৫৬ শতাংশ মার্কিনি।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪.২৫ থেকে ৪.৪৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ট্রাম্পের ভাষণের পরই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা আরও বড়, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালাতে প্রস্তুত।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম, যা বৈশ্বিক বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স








