ইরান যুদ্ধে সেনা নিহতের তথ্য গোপন করছে ট্রাম্প প্রশাসন!

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়ার প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য আড়াল করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএর সাবেক পরিচালক লিও পানেটা। অভিযোগ রয়েছে, গত আড়াই মাস ধরে পেন্টাগন নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংও করেনি। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ এড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
বিজ্ঞাপন
ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কতজন সেনা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত তীব্র
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে উভয় পক্ষ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে। এতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। যদিও তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিহত সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে কারিগরি ত্রুটি বলে ব্যাখ্যা দিলেও সমালোচকদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
সংঘাত শুরুর পর থেকেই জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, পেন্টাগনে সংবাদকর্মীদের প্রবেশ ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তে সরকারপন্থি পডকাস্টার ও ইনফ্লুয়েন্সারদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের মতে, উপসাগরীয় যুদ্ধ কিংবা আফগানিস্তান যুদ্ধের সময়ও গণমাধ্যমের ওপর এত কঠোর বিধিনিষেধ দেখা যায়নি। তাদের অভিযোগ, বর্তমান পেন্টাগন নেতৃত্ব সংবাদমাধ্যমকে সহযোগী নয়, বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ দিন দিন অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সুস্পষ্ট কৌশলের অভাবও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত নিজেদের অনুকূলে রাখতে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
তবে পেন্টাগন সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা নিয়মিত এবং বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করছে। যদিও সমালোচকদের দাবি, প্রকৃত তথ্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসবেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








