Logo

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের কনডম শিল্পে বড় আঘাত

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:২৭
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের কনডম শিল্পে বড় আঘাত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাত কনডম উৎপাদন শিল্পে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাণিজ্য রুটে অচলাবস্থার কারণে কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই শিল্পে গভীর সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় কনডম উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো ভারতে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে দেশটির প্রায় ৮ হাজার কোটি রুপির এই শিল্প খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

ভারতের শীর্ষ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো—এইচএলএল লাইফকেয়ার, কিউপিড লিমিটেড ও ম্যানকাইন্ড ফার্মা—ইতোমধ্যেই কাঁচামাল সংকটের মুখে পড়েছে। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিক্যাল উপাদান ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন খরচ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতি বছর প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদনকারী এই শিল্পে এখন সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েল এবং ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া সরবরাহে। ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ৮৬ শতাংশ অ্যামোনিয়া আসে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান থেকে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিকমতো আমদানি করা যাচ্ছে না।

এর পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও পিভিসিসহ প্যাকেজিং উপকরণের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে অ্যামোনিয়া ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম প্রতি কেজিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভারতে সাধারণত কনডম উৎপাদন ও সরবরাহে ‘বেশি বিক্রি, কম মুনাফা’ নীতি অনুসরণ করা হয়, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষও সহজে এটি কিনতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মডেল বড় চাপের মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটির অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোর বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে কনডমের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরে সরবরাহে ঘাটতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কনডমের দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ কমে গেলে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বৃদ্ধি, মাতৃ ও নবজাতকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া এবং এইচআইভিসহ যৌনবাহিত রোগের বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD