সত্তরের দশকের চেয়েও ভয়ংকর জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি অতীতের বড় জ্বালানি সংকটগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরল এক সাক্ষাৎকারে জানান, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেল সংকট এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার চেয়েও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্ব তেলবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলো। জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এসব দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে প্রভাব থেকে উন্নত দেশগুলোও মুক্ত থাকবে না—ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোপের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ ডলার ৬০ সেন্টে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। অন্যদিকে নিউইয়র্কে লাইট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।








