Logo

ইরানের ৯ নম্বর শর্তে ‘প্রতিরোধ জোট’ নিয়ে নতুন আলোচনা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:১৬
ইরানের ৯ নম্বর শর্তে ‘প্রতিরোধ জোট’ নিয়ে নতুন আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানো হয়। ওই অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার নিহত হওয়ার খবর আসে। তবে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিরোধের মুখে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ব্যয়ের চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে প্রায় ৩৯ দিন পর, গত ৭ এপ্রিল ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেয় পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উদ্যোগে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির নিরাপত্তা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় সম্মতি দেওয়া তাদের জন্য কূটনৈতিক বিজয় হলেও যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এ শর্তগুলো মানবে কি না, তা অনিশ্চিত। তার মতে, চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে ৯ নম্বর শর্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এ শর্তে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ জোটগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য কঠিন হতে পারে।

‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বলতে ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অনানুষ্ঠানিক জোটকে বোঝানো হয়। এই জোটে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাবের বিরোধিতা করে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চালায়।

এই জোটের মধ্যে রয়েছে—লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ) এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী। এছাড়া ইরাকভিত্তিক হারকাত আল-নুজাইবা, বদর অর্গানাইজেশন, কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও আসাইব আহল আল-হকসহ বিভিন্ন সংগঠন পিএমএফ-এর অংশ হিসেবে সক্রিয়।

বিজ্ঞাপন

এই জোটের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের প্রভাব কমানো

২) ইসরায়েলের বিরোধিতা করা

বিজ্ঞাপন

৩) আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ধি করা

ইরানের ওপর হামলার পর লেবাননের হিজবুল্লাহ দ্রুত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ২ মার্চের মধ্যে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৭৩৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ১৫ মার্চ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিলে তারা সরাসরি সংঘর্ষের হুঁশিয়ারিও দেয়।

অন্যদিকে ইরাকের পিএমএফ মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালায়। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব সংঘাতে পিএমএফ-এর ৫০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরুর আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে অভিযান চলবে। একই ধরনের বক্তব্য দেন মার্কিন কর্মকর্তারাও, যেখানে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এক ঘটনায় মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টি বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়।

এ অবস্থায় ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননসহ তাদের সমর্থিত প্রতিরোধ জোটের ওপর হামলা বন্ধ না হলে তারা আলোচনায় বসবে না। এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে তেহরান।

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে লেবাননে হামলা কমানো এবং আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD