তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী সমাধান চায়: ইরানি মন্ত্রী

ইরান এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না, যা ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষকে আবার হামলার সুযোগ করে দেবে—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত রাভেনচি। তিনি বলেছেন, তেহরান সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী সমাধান চায়।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তেহরানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানান, ইসলামাবাদে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিতে সব পক্ষই সম্মত হয়েছে।
রাভেনচি বলেন, ইরান সবসময় কূটনৈতিক সংলাপকে স্বাগত জানায়। তবে এমন আলোচনায় তারা আগ্রহী নয়, যা ভ্রান্ত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে এবং ভবিষ্যৎ হামলার পথ তৈরি করে দেয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “গ্যারান্টি ছাড়া এমন যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য নয়, যা আগ্রাসনকারীদের আবার আক্রমণের সুযোগ দেয়।”
বিজ্ঞাপন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের।
তবে এই সংলাপ আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লেবানন ইস্যু।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও থাকবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তা অস্বীকার করেন এবং লেবাননে নতুন করে হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ইরান স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনায় বসতে চায়, তাহলে আগে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এ শর্ত এখনো মেনে নেয়নি ইসরায়েল, যার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
এর মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে।
তেহরানের অবস্থান হলো, চলমান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে। এ বিষয়টি নিয়েই এখন দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আলজাজিরা








