Logo

মোজতবা খামেনির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে: রয়টার্স

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৪০
মোজতবা খামেনির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে: রয়টার্স
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার পায়েও বেশ গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে দুই পা না এক পা আহত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি আঘাত থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন এবং মানসিকভাবে পুরোপুরি সজাগ রয়েছেন। শারীরিক এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত অডিও কলে বৈঠক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের আসন্ন আলোচনাসহ সাম্প্রতিক সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি অডিও মাধ্যমে যুক্ত থাকছেন।

ইসলামাবাদের মোজতবার ঘনিষ্ঠ ৩টি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। খামেনির ঘনিষ্ঠ লোকজনের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছে রয়টার্স, কিন্তু সেসব তথ্য যাচাই করার উপায় নেই। কারণ হামলা এবং তারপর ৮ই মার্চ তার বাবা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি। তার অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসন করার ক্ষমতা এখনও অনেকাংশেই একটি রহস্য হয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মোজতবার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে জাতিসংঘের ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে যোাগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু একই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরুর প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও ওই হামলায় প্রাণ হারান। মোজতবা নিজে গুরুতর আহত হন।

এই অবস্থাতেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে একটি রুশ সামরিক বিমানে চেপে গত ১২ মার্চ মস্কো যান মোজতবা। বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD