ভেস্তে গেলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, চাপে পাকিস্তান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত সরাসরি বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এক টেবিলে বসাতে পারাই পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক অর্জন। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ইতিবাচক ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের শর্ত মানতে রাজি হয়নি। বিপরীতে ইরানের অবস্থান—তারা কোনো তাড়াহুড়ো করবে না এবং পরবর্তী পদক্ষেপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।
আলোচনা ভেঙে গেলেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহল পুরোপুরি হতাশ নয়। একাধিক কূটনীতিক মনে করছেন, সংলাপ ব্যর্থ হলেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে দুটি বড় কৌশলগত পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, এই আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবিত দেশগুলোকে সংলাপে যুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে ভূমিকা রাখা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ শুরু থেকেই লেবানন, হুথি বিদ্রোহী ও ইরাকি মিলিশিয়াদের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের একটি অংশের দাবি—আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ইসরায়েলের ভূমিকা থাকতে পারে। তাদের অভিযোগ, সংলাপ চলাকালে বৈরুতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন, যা দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি বাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের পথে রয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা








