অর্থের লোভে সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা, ঝুঁকিতে পাকিস্তান!

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনিবার পাকিস্তানের সামরিক বহর সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছায়।
বিজ্ঞাপন
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পাশে এই সামরিক উপস্থিতি পাকিস্তানকে বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এই মোতায়েন মূলত গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি, অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।
বিজ্ঞাপন
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানি হামলার পর এই সামরিক সহযোগিতা আরও গুরুত্ব পায়। ওই হামলায় এক সৌদি নাগরিক নিহত হন। পাকিস্তান এ ঘটনাকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়ে এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করে।
সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবের সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া সৌদি আরব ও কাতার থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে পাকিস্তান। পাশাপাশি বিদ্যমান নগদ আমানত বাড়ানো এবং তেল আমদানিতে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও জানিয়েছে দেশটি।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই আর্থিক নির্ভরতা ও সামরিক সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য ভবিষ্যতে নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্র : আরটি








