যুদ্ধবিরতিতে ‘অবশ্যই’ লেবাননকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে : ঘালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির কাঠামোয় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি তুলেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বহুল আলোচিত ‘ইসরায়েল প্রথম’ পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও অর্থবহ করতে হলে লেবাননকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বাস্তবতায় লেবাননকে বাদ দিয়ে কোনো যুদ্ধবিরতি টেকসই হতে পারে না।
আরও পড়ুন: ভারতকে বড় দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র
তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নির্ভর করছে দেশটির প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিরোধের ওপর। ঘালিবাফের ভাষায়, যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধবিরতি— দুই ক্ষেত্রেই হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী একটি অভিন্ন শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের এই শীর্ষ নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, তাদের তিনি ‘প্রতিরোধী পক্ষ’ হিসেবে দেখেন এবং এদের মধ্যে সমন্বয়ই আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এর মাত্র দুই দিন পর, ২ মার্চ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে চালানো ওই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২৬৭ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রায় ৪০ দিন টানা সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় না আনলে এই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে ঘালিবাফের এই দাবি নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : বিবিসি








