Logo

যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান, দাবি ট্রাম্পের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান, দাবি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই ১০ দফার ৬ ও ৭ নম্বর ধারায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চয়তা দেয়নি।

হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় ইরানের ভূগর্ভে চাপা পড়া “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” তারা ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। তার ভাষায়, “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” বলতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বোঝানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মতে সাম্প্রতিক হামলার পর ভূগর্ভে চাপা পড়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের মজুত সরিয়ে নেওয়া হবে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুনে। ওই বছরের ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরদিন ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর একদিন পর ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি। ২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞাপন

তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইরানের ভূগর্ভে অন্তত ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত থাকতে পারে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রয়োজন হলে ভূগর্ভে চাপা পড়া ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা সম্ভব।

এরপর পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালায়। দীর্ঘ ৩৯ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

বিজ্ঞাপন

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার তথ্যও জানানো হয়।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD