স্থায়ী চুক্তির বদলে অস্থায়ী সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে মতপার্থক্য নিরসন না হওয়ায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্য থেকে সরে এসে এখন অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আপাতত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও ৬০ দিনের সময় পাওয়া যাবে। ওই সময়ের আলোচনায় জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তেহরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে।
বিজ্ঞাপন
প্রায় দুই দশক ধরে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়।
এই সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতি দেখা দেয় এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
টানা প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পরমাণু কর্মসূচি, ইউরেনিয়ামের মজুত এবং এর কার্যক্রম নিয়ে গভীর মতবিরোধই ছিল আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার প্রধান কারণ।
তবে বৈঠকে কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান সেখানে জলমাইন বসানোর ফলে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যায়। আগে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১০ থেকে ১২টিতে।
বিজ্ঞাপন
ইরানি প্রতিনিধিরা প্রস্তাব দেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এবং স্থগিত অর্থের কিছু অংশ ছাড় দেয়, তাহলে হরমুজে জাহাজ চলাচল বাড়ানো হবে। তবে পরমাণু ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এগোয়নি।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং অন্তত ২০ বছরের জন্য পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখুক। বিপরীতে ইরান ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি নয়; তবে সীমিত সময়ের জন্য—৩ থেকে ৫ বছর—সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ। এই মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে পরমাণু অস্ত্র তৈরি সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের ভাষ্য, চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখনও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিই রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স








