Logo

পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ‘অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী’: হোয়াইট হাউস

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৫২
পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ‘অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী’: হোয়াইট হাউস
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। হোয়াইট হাউস দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু শক্তিধর দেশটিকে ‘অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য পরবর্তী আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বুধবার জানানো হয়, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন আশাবাদী। তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নিলে তারা লোহিত সাগরের বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে।

এর আগে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে ওয়াশিংটনের নতুন বার্তা পৌঁছে দেয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গত সপ্তাহান্তের ব্যর্থ আলোচনার পর ইসলামাবাদে নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করছেন। একই সময়ে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা জানায়, বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় হওয়া বার্তাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী আলোচনা ‘সম্ভবত’ ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। তার ভাষায়, “আলোচনা চলছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”

তিনি আরও বলেন, “এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান অসাধারণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। চুক্তি এগিয়ে নিতে তাদের প্রচেষ্টা এবং বন্ধুত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ অবসান এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসনে একটি বড় চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার আলোচনায় তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান একই। তার মতে, ইরানের সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাই লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার সূচক বেড়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের তেল পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দুই ডজনের বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ মূলত তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, সরকারের ঘনিষ্ঠদের লক্ষ্য করে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যারা জনগণের ক্ষতির বিনিময়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ইরানি নাগরিক সাইয়েদ নাইমায়েই বাদরোদ্দিন মুসাভি, যাকে হিজবুল্লাহর অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানি তেলের বিনিময়ে ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD