Logo

রেমিট্যান্স আরও কমলে চাপে পড়বে বাংলাদেশ: দ্য ইকোনমিস্ট

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:২২
রেমিট্যান্স আরও কমলে চাপে পড়বে বাংলাদেশ: দ্য ইকোনমিস্ট
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই; বড় ধাক্কা লাগছে রেমিট্যান্স প্রবাহেও। বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই পতন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

সংকটের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে নেপালের তরুণ পুষ্পা কুমার চৌধুরীর অভিজ্ঞতায়। মাত্র তিন মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার ঘটনায় বহু অভিবাসী শ্রমিক হতাহত হন। এতে তার কর্মস্থল বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্যদের মতো তাকেও দেশে ফিরতে বাধ্য হতে হয়।

২০২৪ সালে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় দেশে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই কোটির বেশি মানুষ কাজ করছিলেন, যা ২০১০ সালের তুলনায় অনেক বেশি। এদের অধিকাংশই স্বল্পদক্ষ শ্রমিক—রাঁধুনি, নির্মাণশ্রমিক বা গৃহকর্মী। সংঘাতের কারণে এসব শ্রমিক দেশে ফিরে আসায় তাদের নিজ নিজ দেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে উপসাগরীয় দেশে শ্রমিক যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত মার্চে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৭৯, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৯২ হাজার ৪৬০। নিরাপত্তাজনিত কারণে নেপালও নতুন শ্রম অনুমতি দেওয়া স্থগিত করেছে।

বিদেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়ে রেমিট্যান্সে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৬.৫ শতাংশ। নেপালে এই হার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং ভারতে ৩.৫ শতাংশ।

অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ১-২ শতাংশ সংকুচিত হলে রেমিট্যান্স প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকও সতর্ক করেছে, চলতি বছরে এসব দেশে অর্থনৈতিক ধীরগতির ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো আরও চাপে পড়বে, যারা ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি সাইমুম ইসলাম চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বড় সংকটে পড়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদেও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এই অর্থ দিয়ে অনেক পরিবার শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করে থাকে, যা ভবিষ্যৎ আয় বাড়াতে সহায়ক।

তবে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পূর্ব এশিয়ার দেশ—বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া—নতুন গন্তব্য হতে পারে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডও বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আসছে।

বিজ্ঞাপন

যদিও নতুন বাজার তৈরি করা সহজ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্ক থাকলেও পূর্ব এশিয়ায় এখনো সেই সুযোগ সীমিত। তবুও শ্রম কূটনীতি জোরদার করে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও মিলেছে। মালয়েশিয়া সম্প্রতি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য তাদের শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এশিয়ার অর্থনীতিতে দ্বিমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে—একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে রেমিট্যান্স কমে যাওয়া। এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD