তিব্বতে সৌর বিপ্লব, জ্বালানি সংকটে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে চীন

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত অগ্রগতির মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে চীন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যেভাবে বাড়ছে, তা বিশ্লেষকদের মতে নজিরবিহীন।
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের মে মাসেই চীন প্রায় ৯৩ গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০টি সোলার প্যানেল স্থাপনের সমান। একই সময়ে বায়ু বিদ্যুৎ সক্ষমতা বেড়েছে ২৬ গিগাওয়াট। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট ১৯৮ গিগাওয়াট সৌর ও ৪৬ গিগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যা অনেক দেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতার সমান।
এর ফলে চীনের মোট সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা এক হাজার গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক।
বিজ্ঞাপন
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় তিব্বতের মালভূমিতে বিস্তৃত সৌর প্যানেলের সারি তৈরি হয়েছে। পাতলা বায়ুমণ্ডল ও তীব্র সূর্যালোক এই অঞ্চলকে সৌরবিদ্যুতের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢালে বসানো হয়েছে বায়ু টারবাইন, যা রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সহায়তা করছে।
দিনে সৌরশক্তি ও রাতে বায়ুশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারসাম্য রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীভিত্তিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও এই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ উচ্চভোল্টেজ লাইনের মাধ্যমে দূরবর্তী শহর ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ছিংহাই প্রদেশের গংহে এলাকায় অবস্থিত ‘তালাতান সৌর পার্ক’ বিশ্বের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি। প্রায় ১৬২ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা ১৬ হাজার ৯৩০ মেগাওয়াট। আগামী কয়েক বছরে এটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই অঞ্চলে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। ফলে শিল্পকারখানা, বিশেষ করে পলিসিলিকন উৎপাদন ও ডেটা সেন্টারগুলো এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
চীন উচ্চভূমিতে সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি বড় জ্বালানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংরক্ষণে জলবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে—দিনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দিয়ে পানি উঁচুতে তুলে রাতে তা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া তিব্বতে আরও একটি উচ্চতর সৌর প্রকল্প নির্মাণাধীন, যা ৪ হাজার ৫৫০ মিটার উচ্চতায় স্থাপিত হবে। ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পে তাপ সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে চীন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, তিব্বতের উচ্চভূমিতে গড়ে ওঠা এই বিশাল জ্বালানি উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিশ্ব জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট








