পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভেঙে দিলেন গভর্নর, দায়িত্বে থাকছেন রাজ্যপাল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অনাগ্রহ দেখান মমতা ব্যানার্জি। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সাংবিধানিক জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত গভর্নর আরএন রবি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগে সম্মত না হওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও কমল তেলের দাম
এদিকে বিজেপি নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৯ মে শপথ নেবেন। ফলে ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমেই সাংবিধানিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে আলোচনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
এমন অবস্থায় গভর্নর আরএন রবি ভারতীয় সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী সরকার ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
ভারতীয় সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মেয়াদ পূর্ণ হলে বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এ জন্য আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন পড়ে না।
এছাড়া সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার (খ) উপধারায় গভর্নরকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই সাংবিধানিক বিধান অনুসারেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
গভর্নরের এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দুই দিন রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজ্যপালের অধীনেই পরিচালিত হবে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গঠনের পথও পরিষ্কার হলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গভর্নরের এই পদক্ষেপ সেই অনিশ্চয়তা দূর করতে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : এনডিটিভি








