ভাইরাল রাজুকে মারধর, বাধ্য করা হলো ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও বিরোধী মতের সাধারণ মানুষও নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ভাইরাল হওয়া পরোটা বিক্রেতা রাজু।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রেনের ভেতরে রাজুকে টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হচ্ছে। ওই সময় তার পরনের জামা ছিঁড়ে যায় এবং তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন বলে ভিডিওতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
পরবর্তীতে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সময় তার মুখে ভয় ও আতঙ্কের ছাপ দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওটি শুভ কর্মকার নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একই অ্যাকাউন্ট থেকে পরে আরও দুটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে রাজুকে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তিনি মন্দিরের পাশে বসে মাংস খেয়েছেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ না বলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন।
আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের সময়ে তাকে স্লোগান দিতে বলা হলে তিনি জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দিতে চান না। তবে পাশে থাকা একজন ‘জয় বাংলা’ বলার পর তিনি সেটি পুনরাবৃত্তি করেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি নির্বাচনী প্রচারণায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
রাজু আরেকটি ভিডিওতে দাবি করেন, তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি তার ব্যক্তিগত পছন্দ রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
এসব ঘটনার পর থেকেই তাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ একটি ট্রেনে তাকে মারধর করে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই স্লোগানটি মূলত ভারতীয় জনতা পার্টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে থাকে।








