Logo

অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ দেখে যুবকের ভয়াবহ তাণ্ডব

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ মে, ২০২৬, ২১:৪৮
অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ দেখে যুবকের ভয়াবহ তাণ্ডব
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে গেছে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। আমির নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তার অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকে ধারালো কোদাল দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে দীর্ঘ সময় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় সাহারানপুরের একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম সানা নাজ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সানার সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল সালমানের। সালমান হচ্ছেন অভিযুক্ত আমিরের বড় ভাই।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন আমির। এরপর কোনো একটি বিষয় নিয়ে ভাবি সানার সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা একটি কোদাল হাতে তুলে নেন তিনি। পরে অন্তঃসত্ত্বা সানার ওপর হামলা চালিয়ে মাথা, ঘাড় ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক আঘাত করেন।

সানার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও আমিরের হাতে রক্তমাখা কোদাল দেখে কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি। স্বামী সালমান স্ত্রীকে রক্ষা করতে চেষ্টা করলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সালমান সেখান থেকে বের হয়ে পুলিশে খবর দেন।

তবে পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আমির তখন একটি গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে দিয়াশলাই হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি হুমকি দেন, কেউ কাছে এগোলে পুরো বাড়ি উড়িয়ে দেবেন। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার আশঙ্কায় নিজেদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও অভিযুক্তের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি চলে। শেষ পর্যন্ত চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অভিযান চালিয়ে আমিরকে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাত পৌনে আটটার দিকে সালমান থানায় যোগাযোগ করে ঘটনার কথা জানান। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরেনসিক দল রক্তমাখা মাটি, ব্যবহৃত অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। নিহত সানার শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা মোহাম্মদ আশিক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। অভিযুক্ত আমিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD