ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতন, বাদ যায়নি শিশুরাও

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। শিশুদেরও এই নির্যাতনের বাইরে রাখা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
বিজ্ঞাপন
পুলিৎজার বিজয়ী কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ১৪ জন ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়, যারা ইসরায়েলি সেনা, কারারক্ষী, বসতি স্থাপনকারী ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের হাতে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
ক্রিস্টফ লেখেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে মতভেদ থাকলেও ধর্ষণের নিন্দায় ঐক্য থাকা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি নেতাদের সরাসরি ধর্ষণের নির্দেশের প্রমাণ না থাকলেও এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হয়েছে, যার ফলে যৌন সহিংসতা কারাগারের ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’-এর মতো হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এক ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সামি আল-সাই ২০২৪ সালে আটক হওয়ার পর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাকে মারধর, বিবস্ত্র করা এবং বিভিন্ন বস্তু দিয়ে নির্যাতন করা হয়। তার ভাষায়, তিনি তখন মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করছিলেন।
আরেক ফিলিস্তিনি কৃষকের অভিযোগ, তিনি যৌন নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ জানালে তাকে ধাতব লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রকাশ্যে কথা না বলার জন্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা হুমকি দেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের পর আটক এক ফিলিস্তিনি নারীর বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাকে বারবার বিবস্ত্র করা, মারধর এবং যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গাজার এক সাংবাদিকও জানান, আটক অবস্থায় কেউই যৌন নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। একইসঙ্গে কয়েকজন ফিলিস্তিনি কিশোরের সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, আটক অবস্থায় ধর্ষণের হুমকি নিয়মিত ঘটনার মতো ছিল।
১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের ভাষ্য অনুযায়ী, কারারক্ষীরা তাকে যৌন ইঙ্গিত দিয়ে ভয় দেখিয়ে বলেছিল—“না করলে তোমার শরীরে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।”
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে জাতিসংঘ, বি’তসেলেম, সেইভ দ্য চিলড্রেন, ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে অনেক ক্ষেত্রে ‘পদ্ধতিগত’ ও ‘রাষ্ট্র-সমর্থিত’ নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে এক মুখপাত্র বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলে নির্যাতনবিরোধী পাবলিক কমিটির নির্বাহী পরিচালক সারি বাশি বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বাস্তব এবং কারাগার ব্যবস্থায় এগুলো স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়। তার মতে, অভিযোগ প্রত্যাহার করা কার্যত ধর্ষণকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
প্রতিবেদনের শেষে নিকোলাস ক্রিস্টফ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তাই এসব অভিযোগ মোকাবিলার নৈতিক দায় ওয়াশিংটনেরও রয়েছে। তার মতে, মার্কিন করের অর্থ ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোকে সমর্থন করছে, ফলে এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও পরোক্ষভাবে জড়িত।








