চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরিতে অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করল নাসা

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনায় নতুন অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চলতি বছরের মার্চে ঘোষিত এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় ভবিষ্যৎ মানব বসতি গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণে ব্যবহৃত হবে আধুনিক রোবটচালিত যন্ত্রপাতি, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় ল্যান্ডার। এসব প্রযুক্তি তৈরি করছে একাধিক বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি। এর মধ্যে রয়েছে ব্লু অরিজিন, যার মালিক জেফ বেজোস।
চাঁদে ঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে নাসা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় সৌরশক্তি ও পারমাণবিক শক্তিচালিত আধা-স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, নতুন এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো চাঁদ হারাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানব অভিযানের পথ আরও সহজ হবে।
তবে এই প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীনও। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। সম্প্রতি তাদের শেনঝৌ-২৩ নভোচারীদের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশন-এ পৌঁছে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নাসার ‘ইগনিশন মুন বেস’ কর্মসূচি তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মানুষ পাঠানোর আগে রোবোটিক ল্যান্ডার ও বিশেষ ড্রোনের মাধ্যমে চাঁদের দুর্গম এলাকা অনুসন্ধান ও মানচিত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নভোচারীদের চলাচল ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহনের উপযোগী যানও পাঠানো হবে।
নাসা জানিয়েছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলবে এই রোবোটিক অনুসন্ধান কার্যক্রম। এ সময়ে ২৫টি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রায় ৪ মেট্রিক টন সরঞ্জাম চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্লু অরিজিন তৈরি করছে ‘এন্ডিউরেন্স’ নামের একটি অত্যাধুনিক লুনার ল্যান্ডার। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেভিগেশন ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে অ্যাস্ট্রোবোটিক-এর ‘গ্রিফিন-১’ ল্যান্ডারকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবস্থিত নোবিলে ক্রেটার-এ অবতরণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এসব যানে থাকবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং লেজারভিত্তিক অবতরণ প্রযুক্তি।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী ধাপে চাঁদে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। এর মধ্যে থাকবে ফিশন রিয়্যাক্টরও।
২০৩২ সালের মধ্যে নভোচারীদের জন্য আধা-স্থায়ী আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ রোভার যান দীর্ঘ দূরত্বে চলাচলে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে বরফ আকারে জমে থাকা পানির অস্তিত্ব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ভবিষ্যতে এই পানি পানীয় জল, অক্সিজেন এবং জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ চন্দ্রাভিযান-এর মাধ্যমে প্রথম মানুষ চাঁদে পা রাখে। সে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং, অ্যাডউইন অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স।
এরপর ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ চন্দ্রাভিযান ছিল চাঁদে মানুষের সর্বশেষ অভিযান।
সূত্র : বিবিসি








