Logo

যুদ্ধবিরতিতে নীতিগত সম্মতি ইসরায়েল-লেবাননের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৪
যুদ্ধবিরতিতে নীতিগত সম্মতি ইসরায়েল-লেবাননের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে উভয় পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ সীমিত পরিসরে কিছু পরীক্ষামূলক বা পাইলট অঞ্চল গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব এলাকায় শুধুমাত্র লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে। সেখানে হিজবুল্লাহসহ অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।

সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর।

গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলে হামলা শুরু করার পর এটি ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি বৈঠক। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ২২ জুন বা এর কাছাকাছি সময়ে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, লেবানন থেকে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা দুটি রকেট ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের জন্য দায়ী করে আসছে এবং নিজেদের সামরিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক বলে দাবি করছে।

হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কোমতি মঙ্গলবার বলেন, তারা কোনো ধরনের ‘আংশিক যুদ্ধবিরতি’ গ্রহণ করবেন না।

এদিকে বুধবারও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রধান সড়কে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের ২০টির বেশি স্থানে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টায়ার শহরের কাছে আল-হাওশ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় চার সিরীয় ও দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এ ধরনের হামলার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তাদের একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পৃথক আরেক হামলায় একজন কর্মকর্তাসহ আরও এক সেনাসদস্য আহত হন।

বিজ্ঞাপন

সেনাবাহিনী ঘটনাটিকে ‘ইচ্ছাকৃত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD