যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে আমরাও আঘাত করব না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার ও রবিবার রাতে ইরানের কোনো সামরিক কিংবা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কোনো মার্কিন ঘাঁটিকেও লক্ষ্যবস্তু করেনি ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে এর আগে টানা ১৩ রাত ধরে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলেছে।
রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেওয়া সেই ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ করে, ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বার্তাও দেওয়া হয়েছে।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তবে যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু কর্মসূচির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে তেহরান। এতে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, কারণ যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইরানের শর্ত— যেহেতু হরমুজ প্রনালী ইরানে ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে গিয়েছে, তাই এখন থেকে অন্য কোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ পণ্য পরিবহনের জন্য এই প্রণালি ব্যবহার করলে তেহরানকে টোল দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তবে ইরানের এই শর্তের কড়া বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রও। এই বিরোধের মধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। ওই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৩ দিন ধরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক দুই দিনের সামরিক বিরতি নিয়ে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য মাইক ওয়াল্টজ রবিবাার ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে হামলায় সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও খানিকটা সুযোগ দিতে চান। এ কারণেই বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”, ফক্স নিউজ সানডেকে বলেছেন মাইক ওয়াল্টজ।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : রয়টার্স








