ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

হরমুজ প্রণালিতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে এ হামলা শুরু হয় এবং এটি ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া’।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন হামলার পর ইরানের পারস্য উপসাগরসংলগ্ন অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানা গেছে।
এর আগে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে। হেলিকপ্টারটি ওমান উপসাগরে গিয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, শাহিদ ড্রোনের আঘাতে বহু মিলিয়ন ডলার মূল্যের ওই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হেনেছিল—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই ক্রু সমুদ্রে পড়ে গেলেও পরে সামুদ্রিক ড্রোনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। সামরিক অভিযানে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, দুই পাইলট নিরাপদ আছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় ইরানকে জবাব দেওয়া হবে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন এ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কিশম ও সিরি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে চাইছে।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বিবিসি








