Logo

এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জুন, ২০২৬, ১২:১২
এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে আবারও জোরালোভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে এল নিনো। ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক আবহাওয়ায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া ও মহাসাগর বিষয়ক সংস্থা নোয়া (ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে বর্তমানে এল নিনো পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন পূর্বাভাসে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনোতে’ পরিণত হতে পারে, যা ইতিহাসের অন্যতম তীব্র এল নিনো হিসেবে রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই বেড়েছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে ২০২৭ সালে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি আবহাওয়া, খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়াবিদরা আগে থেকেই এল নিনোর আগমনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কারণ এর শীতল প্রতিপক্ষ লা নিনা গত বছরের শেষ দিকে দুর্বল হয়ে পড়ার পর উষ্ণ পর্যায়ের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

নোয়া জানিয়েছে, মধ্য ও উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এল নিনো ঘোষণার জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক মাসে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে পানির তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ুপ্রবাহেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ শুধু সমুদ্র নয়, বায়ুমণ্ডলেও এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ের তুলনায় কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার ওপরই এল নিনোর তীব্রতা নির্ভর করে।

নোয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি সময়কালে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ। এমনটি হলে ১৯৫০ সালের পর রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর মধ্যে এটি স্থান পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের মাসিক ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কেইফ বলেন, বর্তমান এল নিনো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ এটি এমন এক সময়ে দেখা দিচ্ছে, যখন বিশ্ব ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য মাত্রার বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মুখোমুখি।

তার মতে, যেসব অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব বেশি পড়বে, সেখানে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত উষ্ণতার সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী বছরজুড়ে এল নিনোর প্রভাব বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD