যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান তদারককারী সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
বিজ্ঞাপন
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
হামলার পর দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এর পরপরই পাল্টা জবাব দেয় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে আবারও হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
সমঝোতা অনুযায়ী লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’তে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ওই ঘটনাকে সমঝোতা লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতিসংঘ। যদিও হামলার দায় স্বীকার করেনি তেহরান। তবে অনুমতি ছাড়া এ নৌপথ ব্যবহার না করার বিষয়ে ইরান আগেও একাধিকবার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে অস্থায়ী একটি সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সহযোগিতায় এবং কোনো ধরনের ফি ছাড়াই এই করিডোর ব্যবহার করা যাবে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই জাহাজগুলোকে এ রুট ব্যবহার করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা








