শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, পরবর্তী বৈঠক খামেনির দাফনের পর

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে হরমুজ প্রণালি, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড় এবং দ্বিপক্ষীয় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। পরবর্তী বৈঠকের তারিখ শিগগির নির্ধারণ করা হলেও তা ৯ জুলাইয়ের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কাতারের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
তাদের ভাষ্য, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতদিন তার দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি শেষে ৯ জুলাই তাকে দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় উপস্থিত থাকলেও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের সরাসরি বৈঠক হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা পরিচালিত হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, দোহার বৈঠকে তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি। যদিও এখনই চূড়ান্ত সমাধান আসেনি, তবুও আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দোহা।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, দোহার বৈঠকে দুই দেশের পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে দ্রুত একটি যোগাযোগ চ্যানেল চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো কোনো পক্ষ কতটা অনুসরণ করেছে, তা পর্যালোচনা করা হবে। এসব মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী বৈঠকে স্থায়ী চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ইরনা, এএফপি








