Logo

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন নজির গড়েছেন। ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণ অনুযায়ী, গত এক বছরে তার আয়ের বড় অংশ এসেছে ডিজিটাল মুদ্রা (ক্রিপ্টোকারেন্সি) খাত থেকে। পাশাপাশি গলফ ক্লাব, অবকাশকেন্দ্র, হোটেল এবং আন্তর্জাতিক লাইসেন্সিং ব্যবসা থেকেও বিপুল আয় করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নৈতিকতা দপ্তরে জমা দেওয়া ট্রাম্পের আর্থিক বিবরণে ডিজিটাল মুদ্রা-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রায় ৮০০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এছাড়া তার নামে চালু হওয়া একটি ডিজিটাল মুদ্রা থেকেও কয়েক শ কোটি ডলার এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রচলিত ব্যবসাগুলোও উল্লেখযোগ্য মুনাফা ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে থাকা তার গলফ ক্লাব, অবকাশকেন্দ্র, হোটেল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে গত বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আয় হয়েছে। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাব থেকেও এসেছে কয়েক কোটি ডলার।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ আয় করছেন ট্রাম্প।

বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগে ট্রাম্পের সম্পদের প্রধান উৎস ছিল রিয়েল এস্টেট ও হোটেল খাত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাত, বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ, তার সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সম্পদের সঙ্গে তুলনা করলে ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতির সমন্বয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সম্পদের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সম্পদের বর্তমান মূল্য কয়েক শ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বলে ধারণা করা হয়। সেই তুলনায় ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে তার বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এত বড় ব্যবসায়িক স্বার্থ স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা করেন না; পরিবারের সদস্য ও নিয়োজিত ব্যবস্থাপকরা এসব কার্যক্রম তদারকি করেন।

সাম্প্রতিক আর্থিক বিবরণ অনুযায়ী, ব্যবসা, প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ, বিলাসবহুল সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক লাইসেন্সিং থেকে অর্জিত আয় ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD