Logo

কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, ৪৩৮ জনের মৃত্যু

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৫৩
কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ, ৪৩৮ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিজ্ঞাপন

ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইএনএসপি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে মোট ১ হাজার ৪০৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশের বেশি।

এরই মধ্যে প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কিসাঙ্গানিতেও প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আইএনএসপি জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারীর মরদেহ পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর মরদেহ ইতুরি প্রদেশের নিয়া নিয়া স্বাস্থ্য এলাকা থেকে গোপনে মোটরসাইকেলে করে প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার শহর কিসাঙ্গানিতে আনা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইবোলায় মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক থাকে। তাই দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়ও ভাইরাসটি সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে যে প্রজাতির ইবোলা ছড়িয়েছে, সেটি ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনের। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে সম্ভাব্য প্রতিষেধক নিয়ে শিগগিরই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। দেশটিতে মোট মৃত্যুর ৮৩ শতাংশের বেশি এই প্রদেশেই ঘটেছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, দুর্গম এলাকা ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন।

বিজ্ঞাপন

ইতুরি প্রদেশের সীমান্ত উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সংযুক্ত। এরই মধ্যে ভাইরাসটি উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইবোলার বৈজ্ঞানিক নাম অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির ছয়টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে—জাইর, সুদান, বুন্দিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে জাইর প্রজাতি। তবে কঙ্গো ও উগান্ডার বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও প্রজাতি।

এই ভাইরাস মানুষ ছাড়াও শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও অন্যান্য প্রাইমেট প্রাণীতে সংক্রমিত হতে পারে। এটি বাতাসে ছড়ায় না; আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র কিংবা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ঘটে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক, সুঁই বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মরদেহ স্পর্শ করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

বিজ্ঞাপন

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারুও ভাইরাসটি বহন করতে পারে।

ইবোলার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, ত্বকে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং গুরুতর পর্যায়ে নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ। সংক্রমণের সাধারণত দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। কঙ্গোর সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে তা ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে আফ্রিকাজুড়ে এই ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: এএফপি, ডব্লিউএইচও।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD