ইউক্রেনে ভয়াবহ রুশ হামলায় নিহত ২৭, আহত অন্তত ৯১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এ কারণে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা তাইমুর তিকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে হামলাটি সংঘটিত হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে কিয়েভে রাশিয়ার চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ।
বিজ্ঞাপন
হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। দিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী একটি আবাসিক এলাকার বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকার আরও আটজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন।
তিকাচেঙ্কো বলেন, ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকবে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়া ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তার দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উচ্চতায় থাকায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
হামলায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রসের ইউক্রেন শাখার একটি ত্রাণ গুদামও ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এতে তিন লাখ ২০ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুদামটির ক্ষয়ক্ষতির ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
হামলার সময় কিয়েভে অবস্থান করছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেনবিষয়ক রাষ্ট্রদূত কাতারিনা মাথেরনোভা। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া কিয়েভের ওপর যেন নরক নামিয়ে এনেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ইরিয়ানা প্লেখোভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হামলায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লেগে যায়। তিনি ও তার স্বামী অন্য বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। পরে দেখেন, তাদের বাসস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
এই হামলার পর শুক্রবার রাজধানী কিয়েভে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। তার ভাষ্য, হামলায় প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও আশপাশের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








