আবারও ধাক্কা খেলেন মমতা, পদত্যাগ করলেন রাজ্য সভাপতি

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের চলমান অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ। শনিবার (৪ জুলাই) তিনি দলীয় সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর গত ৩ জুন সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব কমিটি ভেঙে দেন। পরে সুব্রত বক্সির স্থলাভিষিক্ত হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পান।
নিজের পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা জানান, ৩ জুন থেকে পাওয়া রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও দলের অন্যান্য সব পদ থেকেও তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী হিসেবে তার দায়িত্বও প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট থাকবে।
পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ চন্দ্রিমার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতা যখন তাকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব ও মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন, তখন কেন তিনি পদত্যাগ করেননি।
বিজ্ঞাপন
একসময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী থাকা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলের একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সাংসদেরও বিদ্রোহী অবস্থান নিয়ে এনডিএকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগের একদিন আগে কলকাতায় দলীয় সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে ভবনের তালা পরিবর্তন করে এবং অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান উল্লেখ করে নতুন সাইনবোর্ড টানায়। পাশাপাশি তারা নিজেদেরই ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।
এর জবাবে মমতা-অনুগত নেতারা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








