হরমুজ প্রণালী থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ফ্রান্সের রণতরি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির পর হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা কমতে শুরু করায় ফ্রান্স তাদের বিমানবাহী রণতরি শার্ল দ্য গল নিজস্ব নৌঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রায় দুই মাস আগে রণতরিটি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, শার্ল দ্য গল ভূমধ্যসাগরীয় শহর তুলোঁতে অবস্থিত নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যাবে। তবে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার সরঞ্জাম এবং সেগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত নৌযানগুলো ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিতে তারা প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো নৌ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ উদ্যোগে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০টিরও বেশি দেশের একটি জোট প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহে সম্মতি জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্স তাদের একমাত্র বিমানবাহী রণতরী আরব উপদ্বীপের উপকূলে মোতায়েন রেখেছিল। প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিকে হরমুজ প্রণালীতে পাঠানোর সক্ষমতা ছিল। এছাড়া ওই এলাকায় দেশটি দুটি মাইন-ধ্বংসকারী জাহাজসহ আরও কয়েকটি নৌ-সম্পদ মোতায়েন করে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ওমান তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজস্ব জলসীমায় নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: বাবার শেষ বিদায়েও কেন নেই মোজতবা খামেনি
অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাইরের শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী অঞ্চলবহির্ভূত শক্তিগুলোর সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান নয়।
সূত্র: ব্লুমবার্গ ও ডন








