রাশিয়ার বড় তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেল টার্মিনালে রাতভর ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। শনিবার (৪ জুলাই) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
জেলেনস্কির দাবি, ওই তেল টার্মিনাল রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি। তিনি আরও জানান, একই অভিযানে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ নৌঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দ্র বেগলোভ শহরে ব্যাপক ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তেল টার্মিনাল লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের জন্য নতুন আইন করল সৌদি আরব
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, এসব হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারের প্রায় ৪৩ শতাংশ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনের ভাষ্য, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। কারণ যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে মস্কো এখনো জ্বালানি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তিনি দেশীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিলে স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। জেলেনস্কি জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের যেসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে জেলেনস্কির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার শিকার টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি স্থাপনা, যার বার্ষিক পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন।
সূত্র: বিবিসি








