Logo

তেহরানে তিন ধাপে সম্পন্ন হলো আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১
তেহরানে তিন ধাপে সম্পন্ন হলো আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কর্মসূচির তৃতীয় দিনে গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ধর্মীয় আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। এতে লাখো শোকাহত মানুষ অংশ নেন। জানাজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে এবং পুরো এলাকা শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে ভরে ওঠে।

জানাজার আনুষ্ঠানিকতা তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। প্রথম ধাপে শুধু আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে তাঁর পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ ধাপে তাঁর নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, খামেনির শেষকৃত্যে ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেওয়ায় তেহরান সন্তুষ্ট। আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দুই পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

৩ জুলাই শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কর্মসূচি ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশেষ দূতেরা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে লাখো মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার রাজধানী তেহরানে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন বলে ইরানের দাবি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৬ বছর।

বিজ্ঞাপন

শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ, তুরস্কের জেভদেত ইয়িলমাজ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানসহ আরও অনেকে।

এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুসারে, এ সময় ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD